বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতির হার সামান্য কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে মুদ্রাস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের দামে কিছুটা স্বস্তি আসলেও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এখনও কঠিন অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পপণ্যের উচ্চমূল্য না থাকলে গত মাসে মুদ্রাস্ফীতি আরও কমতে পারত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্যানুসারে, খাদ্যপণ্যের ভোক্তা মূল্যসূচক পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে কিছুটা কমে গেছে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি হার কমাতে ভূমিকা রেখেছে।
তবে ম্যাক্রো অর্থনীতির অন্য দিক থেকে দেখা যায়, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, শহুরে জীবনের ব্যয় সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে, কারণ শহরাঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতির হার জাতীয় গড়ের চেয়ে বেশি।
অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক১৭ শতাংশে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ— অর্থাৎ ০ দশমিক ১৯ শতাংশ পয়েন্ট কম। গত বছরের একই সময়ে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
সরকার চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬)-এ গড় মুদ্রাস্ফীতিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য স্থির করেছে।
অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মার্চ মাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, যা ধীরে ধীরে এপ্রিলের ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, মে মাসের ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং জুনে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। তবে জুলাইয়ে তা আবার বাড়ে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশে। আগস্টে সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে নামলেও সেপ্টেম্বরে আবার বৃদ্ধি পেয়ে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে পৌঁছায়।
শহরাঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতির হার গ্রামীণ এলাকার তুলনায় বেশি ছিল। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে শহরাঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশে, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় তা ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।
শহরে খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ থেকে কমে অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশে। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।
গ্রামীণ এলাকায় খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মুদ্রাস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যানুসারে, নভেম্বর ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে (নভেম্বর ২০২৩ থেকে অক্টোবর ২০২৪) এই হার ছিল ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ।
এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো অক্টোবর মাসের মজুরি সূচক প্রকাশ করেছে, যা আরও কিছুটা কমেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবরে মজুরি সূচক দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ০১ শতাংশে, যা আগের মাস আগস্টের ৮ দশমিক ০২ শতাংশের তুলনায় ০ দশমিক ০১ শতাংশ কম। এর ফলে শ্রমজীবী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
বিটি/ আরকে
Tags: মূল্যস্ফীতি