ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেশ কয়েকটি এলাকায় শনিবার রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে কেশব দ্বীপ, জাস্ক বন্দর, সিরিক এবং বন্দর আব্বাস।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম খবরটি নিশ্চিত করলেও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কিংবা কোনো হামলার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি তেহরান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ধারণা, কৌশলগত এই জলপথে সামরিক তৎপরতার সঙ্গে শব্দগুলোর যোগসূত্র থাকতে পারে। আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা উল্লেখ করলেও, পরবর্তীতে তাদের একটি সূত্র জানায় যে বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো সম্পর্ক নেই। কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে তেহরান এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কেশব দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা ও এপি।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী রোববার ভোরে জানায়, প্রণালি দিয়ে অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও সেগুলোতে আগুন ধরে গেছে। বাহিনীর দাবি, জাহাজ দুটি অনুমোদিত পথ ব্যবহার না করে অননুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলোর নাম বা পতাকার পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি। তবে ট্যাংকার দুটির নাম, পতাকা ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শনিবার একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, জাহাজটি ইরানের নৌ অবরোধ উপেক্ষা করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। একাধিকবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও সেটি না থামায় মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, অচল হয়ে পড়া ওই বাণিজ্যিক জাহাজটি সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী ছিল। পরে একটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে জাহাজটির পেছনের অংশে হামলা চালানো হয়।
গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন কিছুটা সংযত থাকলেও এখন নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সীমিত আকারে হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, এটি কোনো বড় সামরিক অভিযানের শুরু নয়। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইরান বরাবরই হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে যে, নতুন কোনো আগ্রাসন চলানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে কঠোর পাল্টা আঘাত করা হবে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে এই জলপথে জাহাজে হামলার সংখ্যা মার্চের পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। বিস্ফোরণের ঘটনা এবং ট্যাংকারে আগুনের ঘটনার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি। ইরান এর আগে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ অমান্যকারী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
Tags: ইরান, বিস্ফোরণ, মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ প্রণালি