1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
মুসলিম-বিদ্বেষ দমনে নতুন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়াল বাজুস: ভরি ২ লাখ ২৪ হাজার জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরলেন হুইপ জি কে গউছ দেশের ৮ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা ইসরায়েল নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেন নেতানিয়াহু, সরকার গঠনে অনিশ্চয়তা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে খুলনায় তিনটি গুলির ঘটনায় থমথমে পরিবেশ, বটিয়াঘাটার বিতর্কিত ওসি প্রত্যাহার সাফে সব ম্যাচ জয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশ কোচ থমাস ডুলির সংবিধানে নতুন কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল নির্বাচনে নেতানিয়াহুর এগিয়ে থাকা, চাপের মুখে বিরোধীরা

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সমর্থন পেয়েছেন। দেশটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের আস্থা অর্জন করে তিনি পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পথে রয়েছেন। তবে সংসদের মোট ১২০টি আসনের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অন্য কোনো স্বার্থ যেন আমাদের এই পবিত্র লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের বেশি এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিকভাবে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিলেন।

স্থানীয় সময় বুধবার সকাল পর্যন্ত ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি, কট্টর ডানপন্থি ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলোর জোট ৫৪টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। একইসঙ্গে আরব বংশোদ্ভূত ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেয়েছে ১৭টি আসন, যা দেশটিতে একটি রেকর্ড। নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও আরববিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ তাদের অনেককে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোট গণনা এখনো চলায় চূড়ান্ত ফলাফলে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিরোধীরা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি। ফলে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ এখন অনেকটাই কঠিন। যদিও তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তবে বিরোধীদের জন্য আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সরকার গঠন করা গাণিতিক ও রাজনৈতিক উভয় দিক থেকেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঐতিহাসিকভাবেই ইসরায়েলি ইহুদি রাজনীতিকদের অনেকে আরব দলগুলোর সমর্থন গ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান নেন।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিরাপত্তা ইস্যুতে বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। বুধবার রাত ৩টার দিকে জেরুজালেমে নিজ দলের সদর দপ্তরে সমর্থকদের সামনে তিনি একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান। এসময় তিনি সামরিক সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, ইরানের অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ঐতিহাসিক সুযোগ এখন ইসরায়েলের সামনে।

এর আগে ট্রাম্পও ইসরায়েলি ভোটারদের প্রতি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। টেক্সাসে এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, তার সমর্থন নেতানিয়াহুকে বড় সুবিধা দিয়েছে। এদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের সমর্থন হারিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর প্রতি অধিকাংশ ইহুদি ভোটারের এই সমর্থন দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের সংকেত দিচ্ছে। তার নেতৃত্বে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণ এবং ইহুদি জাতীয়তাবাদের নীতি আরও জোরালো হয়েছে, যেখানে মধ্য-বামপন্থি দলগুলো কার্যত প্রান্তিক হয়ে পড়েছে। একসময় যে শান্তি আলোচনার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণা ছিল, অধিকাংশ বর্তমান ডানপন্থি দল তার ঘোর বিরোধী। অথচ ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত শান্তি আলোচনার অন্যতম ভিত্তি ছিল স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা। এখন তারা তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক অবস্থানে চলে গেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু দেশটির ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ৯০-এর দশকে তিনি সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের কাছে ক্ষমতা হারালেও মাত্র ১৮ মাসের ব্যবধানে তিনি আবারও ফিরে আসেন। ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতাদের একজন নেতানিয়াহু ২০০৯ সালে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন।

এবার রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ—প্রায় ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। উভয় পক্ষই নির্বাচনটিকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য निर्णायक মোড় হিসেবে দেখেছিল। আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের মধ্যে ভোট প্রদানের হার ছিল লক্ষণীয়। মূলত সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির প্রতিবাদেই তারা বড় সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের প্রার্থী ফাতেন গাত্তাস বলেন, “আমরা দখলদারত্ব ও বর্ণবাদ প্রত্যাখ্যান করি এবং এখানেই থাকব।”

পরবর্তী সরকার গঠনের লড়াই এখন জটিল জোট সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে। ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর শুরু হবে রাজনৈতিক দরকষাকষি, যা নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ।

Tags: , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT