ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি গাড়িতে মাসে সর্বোচ্চ ২৫০ লিটার পেট্রল বা অকটেন অথবা ৩৫৮ ঘনমিটার সিএনজির বেশি জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে না। গত বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির মহাব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে নতুন এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিএসসিসির মহাব্যবস্থাপক মো. মশিউর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এ নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব জ্বালানি নীতিমালা না থাকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিয়মবহির্ভূতভাবে কিছু কর্মকর্তার গাড়িতে মাসে ৪০০ থেকে ৬০০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি বরাদ্দ দেওয়া হতো। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত ২০০ থেকে ২৫০ লিটার পর্যন্ত জ্বালানি ব্যবহারের সীমা থাকা সত্ত্বেও এই অনিয়ম চলছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে জারি করা আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে ডিএসসিসি প্রশাসন। অনুসন্ধানে জানা যায়, অতিরিক্ত জ্বালানি বরাদ্দ পেয়ে চালকদের একাংশ তা বাইরে বিক্রি করে দিত। এছাড়া কর্মকর্তাদের অনেকে দাপ্তরিক কাজের বাইরেও সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতেন। এমনকি রোগী বহনের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এই নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডিএসসিসির অন্তত ৭৬ জন কর্মকর্তার মাসিক জ্বালানি বরাদ্দ ২৫০ লিটারে সীমিত করা সম্ভব হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত এই সাশ্রয়ী ব্যবস্থার ফলে সিটি করপোরেশনের বার্ষিক প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা খরচ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Tags: জ্বালানি, ডিএসসিসি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, প্রশাসন, সাশ্রয়