সিলেটে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এটি ছিল জিম্বাবুয়ের জন্য গত চার বছরের মধ্যে প্রথম টেস্ট জয় এবং অধিনায়ক হিসেবে ক্রেইগ আরভিনেরও প্রথম। ম্যাচটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা এবং নাটকীয়তায় ভরপুর ছিল।
পেস সহায়ক উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপের দুর্বলতা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯১ রানে গুটিয়ে যাওয়াটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের পেস বোলাররা উইকেটের সুবিধা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ শেষদিকে লড়াই করলেও তাইজুল ইসলাম প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন। তিনি রান আটকাতে পারেননি এবং তার বোলিংয়ে মেহেদীর মতো ধার ছিল না, যা বাংলাদেশের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
জিম্বাবুয়ে মূলত প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বাংলাদেশকে অল্প রানে বেঁধে ফেলার পর তারা ব্যাটিংয়েও তুলনামূলক ভালো করে। প্রথম ইনিংসে শেষের দিকে এনগারাভা এবং মুজারাবানির যোগ করা রানগুলো অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্লেসিং মুজারাবানির বিধ্বংসী বোলিং (৬ উইকেট) বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্যমাত্রা গড়তে দেয়নি, জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭৪ রান। ছোট পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণও ছিল নখদন্তহীন। ওপেনিংয়ে ৯৫ রানের জুটি গড়েন ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন। পরে দুই স্পিনার মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ৭ উইকেট তুলে নিয়ে রোমাঞ্চ ছড়ালেও জিম্বায়ের জয় ঠেকাতে পারেনি স্বাগতিকরা।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার কিউরান এবং বেনেট আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শুরুটা দারুণ করেন। মাঝে কিছু উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও শেষদিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার গুরুত্বপূর্ণ ছক্কা ও চার এবং ওয়েসলি মাধেভেরের ১৯ রানের ধৈর্যশীল কিন্তু চাপের মুখে খেলা কার্যকরী ইনিংসটি জিম্বাবুয়েকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। জয়ের জন্য তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং স্নায়ুচাপ ধরে রাখার ক্ষমতা দেখা গেছে, তা প্রশংসনীয়। তারা ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো খেলেছে।
সিলেটের ২২ গজ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। পিচে বোলারদের জন্য, বিশেষ করে পেসারদের জন্য, শুরু থেকেই সুবিধা ছিল। তবে যে ব্যাটাররা ধৈর্য ধরে উইকেটে থিতু হতে পেরেছেন, তারা রানও পেয়েছেন। এটিকে একটি আদর্শ টেস্ট ম্যাচের উইকেট বলা চলে। বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতার কারণে ম্যাচে বারবার বিঘ্ন ঘটলেও, তা ম্যাচের উত্তেজনা কমাতে পারেনি।
কম দর্শক সমাগম হলেও যারা মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তারা একটি স্মরণীয় টেস্ট ম্যাচের সাক্ষী হয়ে থাকলেন। টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, এই ম্যাচের শেষ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনা দীর্ঘতম ফরম্যাটের রোমাঞ্চকেই আবার প্রমাণ করলো। জিম্বাবুয়ের এই জয়টি তাদের ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় পাওয়া এবং এই বছর তাদের আরও ৮টি টেস্ট খেলার কথা, যা দলটির জন্য ইতিবাচক দিক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য এই হার একটি বড় ধাক্কা এবং বেশ কিছু দুর্বল দিক নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিল।
বিটি/ আরকে
Tags: জিম্বাবুয়ের, টেস্ট