চলতি বছরের বিশ্বকাপে যখন আর্জেন্টিনা-বিরোধী মনোভাবের জোয়ার তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে ব্রাজিলীয় লেখিকা মিলি লাকোম্বে লিখেছিলেন, ‘এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা যা করছে, তা এক পবিত্র আদেশের অংশ।’ তিনি লিওনেল মেসিকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে নিজের ভেতরের যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সেটাই তুলে ধরেছিলেন এভাবে: ‘এমনি একজন খেলোয়াড়, যিনি একাধারে একজন ঈশ্বর এবং ট্রাম্পের সাথে হাত মেলানো সাধারণ মানুষ।’
লাকোম্বে মেসি এবং আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে থাকা জটিলতাগুলো মেনে নেওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, আর্জেন্টিনা দলকে কেন্দ্র করে যে বর্ণবাদী ঘটনাগুলো আমাদের সবার চোখে পড়েছে, মেসি সেগুলোর বিরুদ্ধে কথা বললেন না কেন? তিনি লিখেছিলেন, ‘সে কারণেই মেসির মতো ক্ষমতাবান একজন মানুষকে নিজে ছোট হয়ে থাকা বেছে নিতে দেখলে এত কষ্ট হয়।’
সে সময় মেসির নীরবতা নিয়ে অনেক কথা হয়েছিল। অন্যদিকে, তার পুরো মহাকাব্যিক ক্যারিয়ার জুড়ে কথা বলতে তার যে অস্বস্তি, তা নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। সাংবাদিক জন কার্লিন একবার বলেছিলেন, মেসির সাক্ষাৎকার দু’বার নেওয়ার পর তিনি তৃতীয় সুযোগটি ফিরিয়ে দেবেন-কারণ এই ‘ক্ষুদে মানব’-এর মুখ থেকে অর্থপূর্ণ কোনো কথা বের করে আনা খুবই কঠিন কাজ।
২০১০ সালে হুয়ান সেবাস্টিয়ান ভেরন বলেছিলেন, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থদের উদ্দেশ্যে প্রথম ভাষণ দেওয়ার সময় মেসিকে যতটা নার্ভাস দেখেছেন, তেমন আর কখনো দেখেননি। প্রকাশ্য বক্তব্যের কথা বললে, হয়তো ২০২২ বিশ্বকাপে একজন ডাচ খেলোয়াড়কে ‘ভেগে যাও’ (গো অ্যাওয়ে) বলাটাই ছিল মেসির সবচেয়ে বিখ্যাত তীব্র প্রতিক্রিয়া। এই মৌনতা সত্ত্বেও, মেসি কিছু না বললেও সবসময়ই তার একটি বিশেষ অর্থ তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে যখন তারা বিশ্বকাপ জেতে, তখন মেসি ও আর্জেন্টিনা সবার কাছে প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছিল। আর ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তারা পরিণত হয়েছিল ‘ভিলেনে’।
এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়ের পর লাকোম্বে বলেছিলেন, ‘সে কারণেই এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে, হেরে যেতে বসা একটি ম্যাচের মাঝপথে মেসি যখন আকাশের দিকে তাকায় এবং তারপরই ম্যাচটা ঘুরিয়ে দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়, তখন সেখানে রহস্যময় কিছু একটা ঘটে। তাই না? যা আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি না; শুধু অনুধাবন করি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি ইংল্যান্ডের সমর্থক হিসেবে খেলা দেখতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু ম্যাচের শেষে গিয়ে আমি কেঁদে ফেলি। মাঠে আর্জেন্টিনা দল যে প্রতিশ্রুতি, আবেগ আর ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছিল, তার কাছে আমি নিজেকে সমর্পণ করি। গভীর আবেগের সেই মুহূর্তে পৌঁছালেই কেবল আমরা সেই ‘পবিত্রতার’ স্পর্শ পাই।’
তবে সবাই অবশ্য একইভাবে সেই পবিত্রতার কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলাটিতে ছিল না কোনো মহিমান্বিত রূপ, যা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত থেকে তীব্র সমালোচনা ও কটূক্তির বন্যা বইয়ে দেয়। আর্জেন্টিনার ভক্তরা আঘাত পেয়েছিলেন, ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছিলেন এবং তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে তারা হয়তো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটি দেখে ফেললেন। মেসি যখন নিশ্চিত করলেন যে, তিনি তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন (৭ অক্টোবর বেনিনের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ ম্যাচ) তখন পুরো দেশ জুড়ে নেমে এসেছিল শোক ও কৃতজ্ঞতার এক বিশাল তরঙ্গ।
মেসি বেড়ে উঠেছিলেন বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে, এবং স্পেন ও আর্জেন্টিনা-উভয় দেশের হয়েই খেলার যোগ্যতা তার ছিল। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুবদলের একটি ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অভিষেক হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই-স্পেন তাকে লোভ দেখানোর আগেই যাতে নিজের জন্মভূমির প্রতি সে আনুগত্য সুনিশ্চিত করে। ততদিনে তিনি বার্সেলোনা একাডেমির অন্যতম উদীয়মান তারকা হয়ে উঠেছেন, তবে আর্জেন্টিনায় তিনি তখনও প্রায় অপরিচিত। তার বাবা হোর্হে চাইতেন ছেলে যেকোনো মূল্যে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করুক। সেই প্রক্রিয়া দ্রুত করার আশায় তিনি তত্কালীন কোচ মার্সেলো বিয়েলসার কাছে ভিডিও পাঠিয়েছিলেন।
বহু বছর ধরে হোর্হে মেসি ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বন্ধন দৃঢ় করতে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে গেছেন। বার্সেলোনার সুসংগঠিত পদ্ধতিতে মেসির যে অপরাজেয় রূপ দেখা যেত, জাতীয় দলে যেন তা বজায় থাকত না। দীর্ঘ সময় ধরে হোর্হে তার দেশবাসীর কাছে একই প্রশ্ন করতেন-কীভাবে আমরা আর্জেন্টিনাকে দিয়ে আমার ছেলেকে ভালোবাসাতে পারি?
এখন, আমরা যখন মেসির ফুটবলের বিদায়গাথা লিখতে শুরু করেছি, তার বিরুদ্ধে হওয়া কিছু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা আবারও সামনে আসছে। একসময় দেশের হয়ে মেসির পারফরম্যান্সের প্রতিবাদে একদল ফুটবল বিশ্লেষক এক মিনিটের নীরবতা পালন করেছিলেন। জাতীয় সংগীত না গাওয়ার জন্য তাকে সমালোচনা সইতে হয়েছিল। আমরা জেনেছি যে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে তিনি বমি এবং ডায়রিয়ায় ভুগতেন। ডিয়েগো ম্যারাডোনা তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন যে, তার মধ্যে কোনো নেতৃত্বগুণ নেই (যদিও পরবর্তীতে তিনিই মেসিকে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক করেছিলেন)। আর যখন দেশবাসীর মন জয় করার প্রচারণা জোরদার করা হলো এবং তিনি সাক্ষাৎকার দেওয়া শুরু করলেন, তখন তার কথাবার্তা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের সাধারণ এবং তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেন খুব কম।
কিন্তু মেসি কখনো হাল ছাড়েননি। তিনি পেনাল্টি মিস করেছেন, কেঁদেছেন, আবার দাঁড়িয়েছেন সেই পেনাল্টি নেওয়ার জন্য। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক আলেহান্দ্রো ওয়াল বলেন, ‘জাতীয় দলে মেসির বিশেষত্ব ছিল যে তিনি হেরেছেন। তিনি প্রচুর হেরেছেন। পরাজয়ের মধ্য দিয়েই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন।’ তবে বিষোদ্গার সাধারণ মানুষের চেয়ে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেই বেশি আসত। ২০১৬ সালে যখন তিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নেন, তখন পুরো দেশে ভালোবাসা ও তাকে ফিরিয়ে আনার আকুল আকুতির এক স্বতঃস্ফূর্ত জোয়ার বয়ে যায়, এবং তিনি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তখন থেকে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) মূল অগ্রাধিকার হোর্হে মেসির আকাঙ্খার সাথেই মিলে যায়: এমন একজন কোচ খুঁজে বের করা যিনি পুরো সিস্টেমকে লিওনেলের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারবেন। কাজটা সহজ ছিল না।
হয়তো ২০২০ সালে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পরেই নতুন এক মেসির আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল। নেতা হিসেবে নিজের ভূমিকায় তাকে দেখা গেল আরও আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ় এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনা কোপা আমেরিকা জেতে, এবং সতীর্থদের উদ্দেশ্যে দেওয়া মেসির প্রেরণাদায়ক বক্তব্যের কিছু অংশ বাইরে প্রকাশিত হয়। নিজের স্বতন্ত্র রোজারিও উচ্চারণে তিনি সাধারণ কিছু কথা বলতেন, যেখানে তিনি শব্দের শেষের ব্যঞ্জনবর্ণগুলো এড়িয়ে যেতেন। তার এবং আর্জেন্টিনার তখনকার সাফল্যগুলো নিজেদের গল্প নিজেই বলে।
মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবারের বিদায় অনুষ্ঠানটি প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে সেই প্রথম যুব ম্যাচের মতোই ছিল তাড়াহুড়ো এবং অপ্রস্তুত ভাবযুক্ত। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রতিপক্ষ দল খুঁজে পেতেই হিমশিম খাচ্ছিল, কারণ তারা অন্য কোনো ফুটবল পরাশক্তির সাথে এই মূল আসরের আলো ভাগ করে নিতে চায়নি। কেউ কেউ বেনিনকে অযোগ্য বলে উপহাস করেছিলেন, এমনকি লিওনেল স্কালোনিও বলিভিয়া ও বুর্কিনা ফাসোর (এই উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা যাদের বিরুদ্ধে খেলেছে) চেয়ে বড় কোনো প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেছিলেন। বুর্কিনা ফাসো শেষ পর্যন্ত তাদের অনূর্ধ্ব-২৩ দল পাঠিয়েছিল, যারা ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পৌঁছায়, আর স্টেডিয়ামের গ্যালারিও পুরোপুরি ভরেনি। টিকিটের দাম ছিল আকাশচুম্বী, এবং কট্টর সমর্থকরা তাদের ভাষায় এই ‘প্রতারণা’র ফাঁদে পা দিতে অস্বীকার করেছিল।
তবে বেনিনের বিরুদ্ধে সমর্থকরা বিপুল সংখ্যায় মাঠে হাজির হয়েছিল। দিনের শুরুর দিকে, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পেছনের একটি সাধারণ ও মলিন কার্যালয়ে ছোট এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেসি বুয়েনস আইরেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করেন। ১০ নম্বর জার্সির জন্য অত্যন্ত যত্নসহকারে নির্মিত শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রচারিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আবেগপূর্ণ পোস্ট দেখা যেতে থাকে। একটি পোস্টে লেখা ছিল, ‘শেহেরাজাদের মতো, তিনিও ম্যাচের পর ম্যাচ ভাগ্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আর্জেন্টিনার মানুষকে তার জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির এক হাজার এক রজনীর গল্প এবার শেষ হলো।’ দ্রুতই এর একটি জবাব আসে, ‘আরে ভাই, দাঁড়াও! এখন সকাল ৯টা বাজে। আমি এখনই কাঁদা শুরু করতে পারব না।’
ওয়েন রুনির কথা ধার করে বললে, ম্যাচের চারপাশের বিনোদন ছিল একেবারেই বাজে। সোলেদাদ পাস্তোরুত্তির একটি দীর্ঘায়িত পরিবেশনা ছিল, যিনি একসময় ম্যারাডোনার সাথে একই গান গেয়েছিলেন। ফকল্যান্ড/মালভিনাস যুদ্ধের একজন প্রবীণ যোদ্ধা জাতীয় সংগীত গান এবং আটলান্টায় মাঠে পড়ে যাওয়া সেই একই পতাকা দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে নেন। গ্যালারি থেকে এএফএ সভাপতি চিকি তাপিয়ার বিরুদ্ধে কোরাস সুর ভেসে আসে, যা শেষের ড্রোন শো-এর খামখেয়ালীপনাকে খানিকটা হলেও পুষিয়ে দিয়েছিল, যেখানে ড্রোনের আলোয় আকাশে একটি বিমা কোম্পানির বিজ্ঞাপন জ্বলজ্বল করছিল।
কিন্তু ফুটবল তো শেষ পর্যন্ত এক পুনরুত্থান বা মুক্তির গল্প, এবং সেই রাতটি সত্যিই সার্থক হয়ে উঠেছিল। বেনিন আসলে শক্ত লড়াই দিয়েছিল, আর দলের অধিনায়ক মেসিকে ‘দাহোমি আগোজি’-এর (ফরাসি দখলের বিরুদ্ধে লড়াই করা এক নারী যোদ্ধা দল) একটি মূর্তি উপহার দিয়ে ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে রাখেন। মেসি তার দলের তিনটি গোলেরই সুযোগ তৈরি করে দেন এবং একটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন। তিনি কোনো ভুল করেননি।
ক্যামেরার লেন্স ভক্তদের অশ্রুসজল চোখের ওপর জোর দিলেও, কংক্রিটের গ্যালারি থেকে আসা আওয়াজ ছিল চূড়ান্ত উৎসবের, অবিরাম এবং কম্পন সৃষ্টিকারী। এটা ছিল নিখাদ ফুটবল। আর মেসি এটা উপভোগ করছিলেন, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। তিনি মাইক হাতে নেন এবং এমন এক স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী বক্তৃতা দেওয়া শুরু করেন যা নিয়ে প্রতিটা শব্দ ধরে ডক্টরেট থিসিস লেখা সম্ভব। বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে চলা নানা চক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি মানসিকভাবে আমাদের সম্পূর্ণ নিঃশেষ করে দিয়েছিল।’ সামনে কঠিন সময়ের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন যে, দলের ঐক্যই সেই পরিস্থিতি পার হওয়ার একমাত্র উপায়।
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বপ্ন পূরণ করার একটি স্বপ্ন ছিল। আমি জানি না, আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি কথা বলছি। আমি এখান থেকে যেতে চাই না। আমি তোমাদের ভালোবাসি।’ আর আর্জেন্টিনাও তাকে বিনিময়ে ভালোবাসে।
লাকোম্বে যেমনটা বলেছিলেন, মেসি যখন আকাশের দিকে তাকায় এবং তারপর পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিয়ে দুর্দান্ত কিছু করে দেখায়, তখন সেখানে রহস্য থাকে। সেখানে পবিত্র কিছু একটা বিরাজ করে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
Tags: আর্জেন্টিনা, মেসি