ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বুথফেরত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট উভয়েই সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। নিজ নিজ সমর্থকদের সামনে তারা বিজয়ের আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তবে বিরোধী দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নেতানিয়াহুর পতনের দাবি তুলেছেন। টাইমস অব ইসরাইল এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মোট ভোটের ৭২ শতাংশ গণনা শেষে বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে। তারা আইজেনকোটের যশার দলের চেয়ে পাঁচ বা ছয়টি আসন বেশি পেতে পারে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, নেতানিয়াহুর জোট বর্তমানে নেসেটে থাকা তাদের আসন সংখ্যা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। জরিপগুলোতে তারা ৫১ বা ৫২টি আসন পাচ্ছে বলে দেখানো হয়েছে। যদিও ভোট গণনার আংশিক ফলাফলে এই সংখ্যা ৫৪-তে পৌঁছেছে। এসব তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আইজেনকোট তার সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। তিনি নেতানিয়াহুকে জনগণের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়ার আহ্বান জানান। ভোটগ্রহণের পাঁচ ঘণ্টা পর রাত তিনটার দিকে নেতানিয়াহু ভাষণ দেন। তিনি দাবি করেন, ডানপন্থি জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তিনি আরব দলগুলোকে ইসরাইলের অস্তিত্বের বিরোধী আখ্যা দিয়ে তাদের নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদ দাবি করেছেন, নেতানিয়াহু নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তারা একটি জায়নবাদী সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে ডেমোক্রেট দলের প্রধান ইয়ার গোলান ব্যতিক্রমী অবস্থান নিয়ে আরব দল রা‘মের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বুথফেরত জরিপে রেকর্ড সংখ্যক আসন পাওয়ার আভাসে আরব দলগুলোর নেতারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন এবং রা‘ম দলের প্রধান মনসুর আব্বাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের বাদ দিয়ে ইসরাইলের কোনো রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব নয়।
Tags: ইসরাইল নির্বাচন, ইসরাইল রাজনীতি, গাদি আইজেনকোট, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, সরকার গঠন