ফরিদপুরের সদরপুরে আট বছর বয়সী শিশু সামিউল নিখোঁজের ঘটনায় পিবিআইয়ের এক বিশেষ অভিযান রাতভর চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সাফল্য পাওয়া যায়নি। শিশুটি নয়াকান্দি গ্রামের প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে। গত ১৫ জুন থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে উদ্বেগ বিরাজ করছিল। নিখোঁজের পর শিশুটির চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন, যার সূত্র ধরেই ফরিদপুর জেলা পিবিআই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে। ফরিদপুরের সদরপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) রাতভর মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ সামিউলের (৮) লাশ খুঁজে পায়নি।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ কৃষ্ণপুর ও ফরিদপুর সদর এলাকা থেকে চারজনকে আটক করে। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নয়াকান্দি গ্রামের আলামিন (৩৬), মোস্তফা ফরাজী (৫০), নগরকান্দা থানার গোয়ালপোতা গ্রামের ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) এবং সুজন (৩৭)। পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালানো হয়। রোববার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত ৩টা পর্যন্ত নয়াকান্দি গ্রামের একটি তালাবদ্ধ ঘরে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ওই ঘরের পাকা মেঝে কেটে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় মাটি খুঁড়েও শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন এবং সদরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল আল মামুন শাহ।
অভিযান শেষে ভোর রাত ৩টার দিকে সাময়িক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এ ব্যাপারে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, শিশু সামিউলের নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনে তাদের তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। অপরাধের সাথে জড়িতদের শনাক্তকরণ ও শিশুটিকে খুঁজে বের করার লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
Tags: অনুসন্ধান, নিখোঁজ, পিবিআই, ফরিদপুর, সদরপুর