1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
বিএনপি নেতা হত্যাচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা কারাগারে ‘উদ্যোগ’ ঋণে প্রতারণা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর সতর্কবার্তা ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানো শুরু: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ১৭ বছর পর চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি জসিম পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের অতি-বলপ্রয়োগ বন্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভ: রাজপথে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার কাতারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজে আমিরের অংশগ্রহণ নতুন বলে হাসানের জোড়া আঘাত, ম্যাচে ফিরছে বাংলাদেশ ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ

পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের অতি-বলপ্রয়োগ বন্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পখাতে চলমান মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, হাজার হাজার শ্রমিক যখন ন্যূনতম মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন, তখন পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলপ্রয়োগ অবশ্যই পরিস্থিতির প্রয়োজনে সীমিত হওয়া জরুরি। কিন্তু এক্ষেত্রে পুলিশের আচরণের তীব্রতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এইচআরডব্লিউ স্পষ্ট করেছে, শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে সহিংসতা নয়, বরং সুরক্ষা প্রদানই কর্তৃপক্ষের কাজ হওয়া উচিত। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

সহিংসতা ও দায়বদ্ধতার সংকট

বিক্ষোভের অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব সহিংসতার পেছনে রাজনৈতিক গোষ্ঠী এবং কিছু ক্ষেত্রে কারখানার মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নাশকতার দায়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৩৩ জন সমর্থককে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সামনে এসেছে। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের শ্রমিকবিরোধী মিছিলে অংশগ্রহণের অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। সংস্থাটি জোর দিয়ে বলেছে, সহিংসতায় জড়িত যে পক্ষই হোক না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সময়ের দাবি। প্রতিবেদনে ৩ নভেম্বর তৌফিক হোসেন নামের এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। তার এক সহকর্মী এইচআরডব্লিউকে বলেন, ‘দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা কারখানায় ফিরছিলাম। পেছনে ফিরে দেখি, তৌফিক মাটিতে পড়ে আছেন।

শ্রমিকদের জীবনসংগ্রাম ও মজুরি সংকট

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে ১২ হাজার ৫০০ টাকার ন্যূনতম মজুরি দিয়ে জীবন ধারণ করা অসম্ভব। ৩১ বছর বয়সী একজন সেলাই মেশিন অপারেটরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসাভাড়া এবং রান্নার গ্যাসের পেছনেই আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যায়, যা পরিবারের খাবার ও সন্তানদের শিক্ষার খরচ মেটানোর পথে প্রধান অন্তরায়। সরকার গত ১ নভেম্বর একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে ৩ নভেম্বর আশুলিয়ায় তিন শ্রমিকনেতাকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় হাজারো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা শ্রমিকদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক কর্মীর স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী কেবল বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন, কোনো ধরনের নাশকতায় তিনি জড়িত ছিলেন না। অথচ তাকে আইনশৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে এবং আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগও উঠছে। ২০২৩ সালে তাদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। বোর্ড জানিয়েছে, নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার পর ডিসেম্বর থেকে তা কার্যকর করা হবে। একজন ৩১ বছর বয়সী সেলাই মেশিন অপারেটর নিজের আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার বাসাভাড়া ৬ হাজার টাকা। রান্নার গ্যাসের দাম এখন ২ হাজার ৩০০ টাকা। আমি মাসে বেতন পাই ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ৩ নভেম্বর আশুলিয়ায় তিনজন শ্রমিকনেতাকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডের দায়িত্ব

প্রতিবেদনে শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এইচআরডব্লিউর মতে, সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সাথে চুক্তি করার সময় ব্র্যান্ডগুলোকে এমন শর্ত নিশ্চিত করতে হবে যা শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনধারণের মজুরি প্রদানে বাধা সৃষ্টি না করে। চুক্তি যেন কোনোভাবেই শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, তা তদারকি করা ব্র্যান্ডগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমনীতি এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংস্থাটি বলেছে, শ্রম আইনের সংশোধনী অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনার যে বিধান রয়েছে, তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে সরকার ও শিল্পমালিকদের একটি সমঝোতামূলক অবস্থানে আসা এখন সময়ের প্রয়োজন। সহিংসতার চক্র ভেঙে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে একটি দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করাই বর্তমান পরিস্থিতির উত্তরণে একমাত্র সমাধান বলে মনে করছে সংস্থাটি। এ সময় তৌফিক বিক্ষোভরত শ্রমিক এবং বিক্ষোভ দমনের জন্য অন্য একটি পোশাক কারখানা থেকে ভাড়া করে আনা লোকজনের মাঝে পড়ে যান।

Tags: , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT