জীবনের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্মার্টফোন। যেনো শরীরের একটি অতিরিক্ত অঙ্গ এটি। শরীরের যেমন যত্ন করা হয়, তেমনই নিয়মিত যত্ন দরকার এই স্মার্টফোনের। তবে কিছু ব্যবহারকারীর সাধারণ অভ্যাসের কারণে স্মার্টফোনে নানা সমস্যা দেখা দেয়।
কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে স্মার্টফোন থাকে দারুণ কার্যকর। বিভিন্ন প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েব সূত্রে এসব জানা গেছে।
ইলেকট্রনিকস ও ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সস্তা চার্জার ব্যবহার, ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া, কিংবা দীর্ঘ সময় চার্জে লাগিয়ে রাখার মতো অভ্যাস ধীরে ধীরে ফোনের ব্যাটারি, স্ক্রিন ও সার্কিটের ক্ষতি করে। অনেক সময় এর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে বোঝা না গেলেও দীর্ঘমেয়াদে ফোনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ভালোভাবে ব্যবহার করার জন্য কিছু অভ্যাসগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হয়। যেমন—
অতিরিক্ত গরম ও ঠাণ্ডায় ফোন ব্যবহার না করা
চরম তাপমাত্রা যেমন অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা উভয়ই স্মার্টফোনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফোন যদি গরম গাড়িতে ফেলে রাখা হয়, তাহলে তাপের কারণে প্রসেসর ও চিপে ক্ষুদ্র ফাটল তৈরি হতে পারে, যা ধীরে ধীরে ফোনের ‘মস্তিষ্ক’ নষ্ট করে দেয়। আবার প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় ব্যাটারির ভেতরের তরল পদার্থ জমে যায়, ফোন ধীরে কাজ করে এবং স্ক্রিনেও ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের তাপমাত্রা ফোনের কার্যক্ষমতা ও আয়ু কমিয়ে দেয়।
সারারাত চার্জ দেয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা
অনেকেই সারা রাত স্মার্টফোন চার্জে দিয়ে রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অভ্যাস ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি দীর্ঘ সময় শতভাগ চার্জে থাকলে ভেতরের উপাদানগুলো নষ্ট হতে শুরু করে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা বলছে, ব্যাটারিকে ৮০-৯০ শতাংশ চার্জের মধ্যে রাখলে তা বেশিদিন ভালো থাকে। আবার ব্যাটারি ৫ শতাংশ বা তার কমে নামলেও ক্ষতি হয়। এতে ব্যাটারির অভ্যন্তরীণ গঠন বদলে যায় ও এর ক্ষমতা কমে যায়। তাই স্মার্টফোন টিকিয়ে রাখতে ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ বা একেবারে ফুরিয়ে যাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

ফাস্ট চার্জিং এড়িয়ে চলা
স্মার্টফোনের ফাস্ট চার্জিং এখন সময় বাঁচায় ঠিকই, কিন্তু এটি ব্যাটারির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে বলেই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চার্জ দেয়ার সময় অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যা ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ নষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেই ব্যাটারির সুরক্ষাবলয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এতে ব্যাটারির আয়ু কমে যায় এবং তা ঝুঁকিপূর্ণও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ও বারবার ফাস্ট চার্জিং ব্যবহার না করাই ভালো। নিরাপদ ব্যবহারে সাধারণ চার্জিংই বেশি কার্যকর।
ফোন পড়ে যাওয়া ও নিম্নমানের চার্জার ব্যবহারে সতর্কতা
আজকাল অনেক স্মার্টফোন ব্র্যান্ডই নিজেদের ডিভাইসকে ড্রপ ও শক প্রতিরোধী বলে দাবি করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন উঁচু স্থান থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিন না ভাঙলেও ভেতরে ক্ষুদ্র ফাটল (মাইক্রো-ক্র্যাক) তৈরি হতে পারে। এসব ফাটল ধীরে ধীরে চিপ ও মাদারবোর্ডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে ফোনের কাজকর্মে সমস্যা দেখা দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া নিম্নমানের চার্জার ব্যবহারে ভোল্টেজের কারণে ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পুড়ে যেতে পারে। তাই ফোনকে সবসময় সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার এবং ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করা উচিত।

এছাড়াও ফোনের ভেন্টে (ছোট ছিদ্র) ধুলা জমলে গরম বেড়ে যায়, সফটওয়্যার আপডেট এড়ালে সিস্টেম বেশি শক্তি খরচ করে। আবার চাবি বা কয়েনের সঙ্গে ফোন বহন করলে স্ক্রিনে আঁচড় পড়ে। অতিরিক্ত জোরে সাউন্ডে গান বা ভিডিও চালালে স্পিকারও নষ্ট হতে পারে।
Tags: স্মার্টফোন