1. ershadmc@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

রাতের বেলা আগের চেয়ে বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠছে পৃথিবী?

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

দৈনিক স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ থেকে জানা গেছে যে, কৃত্রিম আলোকসজ্জার কারণে বিশ্বজুড়ে রাতের উজ্জ্বলতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ভিন্নতা রয়েছে; যেমন—সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উজ্জ্বলতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে শক্তি সঞ্চয় এবং আলোক দূষণ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপে ইচ্ছাকৃতভাবে আলোর পরিমাণ কমানো হয়েছে।

গবেষকরা ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী রাতের আলোতে ১৬% নেট বৃদ্ধির তথ্য নথিবদ্ধ করেছেন। তবে তারা দেখিয়েছেন যে, এই উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি সব জায়গায় সমানভাবে হয়নি, বরং অসংখ্য কারণের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন অঞ্চলে উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি এবং হ্রাসের একটি মিশ্র চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২২ সালে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট আলোক উজ্জ্বলতা ছিল সবচেয়ে বেশি, যার পরে রয়েছে চীন, ভারত, কানাডা এবং ব্রাজিল।

উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ বিদ্যুতায়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আলো কমে যাওয়ার পেছনে দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ ছিল। আকস্মিক আলো কমে যাওয়ার কারণ ছিল সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিদ্যুৎ গ্রিড অচল হয়ে পড়া এবং সশস্ত্র সংঘাত। আর ধীরে ধীরে আলো কমে যাওয়াটা ছিল প্রায়শই ইচ্ছাকৃত, যা সরকারি নীতিমালা, সাশ্রয়ী এলইডি বাতির ব্যবহার এবং আলোক দূষণ কমানোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।

গত বুধবার ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার সিনিয়র লেখক এবং কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল রিমোট সেন্সিং ল্যাবরেটরির পরিচালক ও রিমোট সেন্সিংয়ের অধ্যাপক ঝে ঝু বলেন, “কয়েক দশক ধরে আমাদের একটি সরল ধারণা ছিল যে, মানুষের জনসংখ্যা এবং অর্থনীতি বৃদ্ধির সাথে সাথে রাতের পৃথিবী ক্রমাগত উজ্জ্বল হচ্ছে।”

ঝু বলেন, “আমরা আবিষ্কার করেছি যে পৃথিবীর নৈশচিত্র আসলে অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। গ্রহের আলোকছাপ ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে, সংকুচিত হচ্ছে এবং স্থান পরিবর্তন করছে।”

গবেষকরা মার্কিন সরকারের একটি আর্থ-অবজারভেশন স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত এবং নাসা দ্বারা প্রক্রিয়াজাত ১০ লক্ষেরও বেশি দৈনিক ছবি ব্যবহার করেছেন। এর আগের বৈশ্বিক গবেষণাগুলো মূলত বার্ষিক বা মাসিক সমন্বিত স্যাটেলাইট ইমেজের ওপর নির্ভর করত।

সবচেয়ে নাটকীয় উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি দেখা গেছে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে, বিশেষ করে সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে সোমালিয়া, বুরুন্ডি এবং কম্বোডিয়া, যার পরেই রয়েছে ঘানা, গিনি এবং রুয়ান্ডাসহ বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশ।

ঝু বলেন, “এটি কেবল নগরায়ণ নয়। এটি শক্তির প্রাপ্যতার একটি বিশাল প্রসার। এই সংখ্যাগুলো একটি গভীর পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ পুরো অঞ্চলগুলো প্রায় ঘুটঘুটে অন্ধকার থেকে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের অংশে পরিণত হচ্ছে।”

লেবানন, ইউক্রেন, ইয়েমেন এবং আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতে আলোর ব্যাপক ঘাটতি দেখা গেছে, যেখানে সশস্ত্র সংঘাত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে আলো হারিয়ে গেছে। হাইতি এবং ভেনেজুয়েলাতেও একই ধরনের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে আলো কমে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকট এবং অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ছিল।

ঝু বলেন, “ইউক্রেনে আমরা আলোর একটি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস লক্ষ্য করেছি যা ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত বৃদ্ধির সাথে হুবহু মিলে যায়,” যখন রাশিয়া সেখানে বড় আকারের আক্রমণ শুরু করেছিল।

“আমরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলেও যুদ্ধের সময় একইভাবে আকস্মিক অন্ধকার নেমে আসতে দেখেছি,” ঝু যোগ করেন।

ইউরোপে রাতের আলোর উজ্জ্বলতা ৪% নেট হ্রাস পেয়েছে, যা মূলত প্রযুক্তিগত উন্নতি এবং পরিবেশগত নীতির কারণে হয়েছে।

ঝু বলেন, “এটি উচ্চ-চাপের সোডিয়াম ল্যাম্পের মতো পুরোনো, কম-দক্ষ স্ট্রিটলাইট থেকে নতুন এবং নির্দিষ্ট দিকমুখী এলইডি সিস্টেমে ব্যাপক রূপান্তরের কারণে হয়েছে। সেই সাথে কঠোর জাতীয় জ্বালানি-দক্ষতা ম্যান্ডেট এবং অন্ধকার আকাশ সংরক্ষণের প্রচেষ্টাও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ইউরোপের বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় কারণ সেখানে একটি সুশৃঙ্খলভাবে আলো কমানোর প্যাটার্ন দেখা যায়।”

ঝু ফ্রান্সকে অন্ধকার আকাশ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি-দক্ষতা নীতিমালার ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিটি/ আরকে

Tags: , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT