ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যার মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতিই হলো জীবন ও সম্পদ রক্ষার মূল চাবিকাঠি। পৃথিবীর ভূত্বকের হঠাৎ কম্পনের ফলে ভূমিকম্প ঘটে। এটি ব্যাপক ক্ষতি এবং প্রাণহানির কারণ হতে পারে। সম্প্রতি, শুক্রবার (২১ নভেম্বর) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এর উৎপত্তিস্থল নরসিংদীর মাধবদী। ভূমিকম্প হলে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে নিজের ক্ষতি করে বেশি। ভূমিকম্প বিষয়ে আমাদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। তবে কিছু সহজ প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটাই রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। ভূমিকম্পের আগেই আমাদের উচিত নিরাপদ আশ্রয়ের স্থানগুলি, যেমন মজবুত টেবিল বা শক্ত দেয়ালের কোণ, চিহ্নিত করে রাখা এবং পরিবারের সকল সদস্যকে “নিচু হওয়া, আড়াল নেওয়া ও ধরে থাকা” কৌশলটি শিখিয়ে দেওয়া।
ভূমিকম্পের সময় করণীয়
বাড়ির ভেতর থাকলে:
ভূমিকম্পের সময় মেঝেতে বসে পড়ুন এবং কোনো মজবুত আসবাবের নিচে আশ্রয় নিন। কিছুক্ষণ স্থির থেকে থাকুন। হেলমেট পরে বা হাত দিয়ে মাথাকে ঢেকে রাখুন।বিছানায় থাকলে মাথা বাঁচাতে বালিশ ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের দিকের দেয়ালের কাছে বসে আশ্রয় নিতে পারেন। সুইচের সামনে থাকলে ফ্যান বা বৈদ্যুতিক জিনিসপত্র বন্ধ করে দিন। রান্নাঘরে চুলা চালু থাকলে বন্ধ করুন। বহুতল ভবনে থাকলে ভূমিকম্প না থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতর থাকাই ভালো। ভূমিকম্প থামলে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামুন, কিন্তু লিফট ব্যবহার করবেন না।
বাড়ির বাইরে থাকলে:
খোলা জায়গায় আশ্রয় নিন। ভবন, গাছ, লাইটপোস্ট বা বৈদ্যুতিক তারের নিচে দাঁড়াবেন না। ভূমিকম্পের সময় গাড়িতে থাকলে দ্রুত গাড়ি খোলা জায়গায় পার্ক করুন। ব্রিজ, ফ্লাইওভারে ভূমিকম্পের সময় থামবেন না। বহুতল ভবন কিংবা বিপজ্জনক স্থাপনা থেকে দূরে গাড়ি থামান।
ভূমিকম্পের পর করণীয়:
বড় ভূমিকম্পের পর আবার ছোট ভূকম্পন হতে পারে। সেজন্য সতর্ক থাকুন। কম্পন থেমে গেলেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, তারপর বের হোন।পরিবারের সবাই নিরাপদ আছে কি-না, তাদের মানসিক অবস্থা কেমন তা জিজ্ঞেস করুন। তারপর চারদিকে পর্যবেক্ষণ করুন ঘরের অবস্থা কেমন।
গ্যাসের সামান্যতম গন্ধ পেলে জানালা খুলে বের হয়ে যান এবং দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করুন। ফ্যান সঙ্গে সঙ্গে ছাড়ার প্রয়োজন নেই। কোথাও বৈদ্যুতিক স্পার্ক চোখে পড়লে মেইন সুইচ বা ফিউজ বন্ধ করে দিন। ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং থেকে সাবধান থাকুন। যেকোনো সময় আগুন লাগতে পারে। অবস্থা স্বাভাবিক হলে একজন ইলেকট্রিশিয়ান এনে চেক করান। আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখুন। ফায়ার সার্ভিসের ফোন নম্বর রাখুন। ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়লে শান্ত থাকুন এবং জোরে চিৎকার না করে পাইপ বা দেয়ালে টোকা দিয়ে নিজের অবস্থান জানান।
প্রস্তুতির গুরুত্ব
ভূমিকম্প পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন হলেও, প্রস্তুতির মাধ্যমে অনেক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। ভূমিকম্পের সময় যদি আমরা সঠিক পদক্ষেপ নিই এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে, তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিটি/ আরকে
Tags: earthquake, ভূমিকম্প