দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়াতে অফশোর বা সাগর উপকূলীয় ব্লকের আগে অনশোর বা স্থলভাগের ব্লকে অনুসন্ধান চালু করতে চায় পেট্রোবাংলা। এজন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-কে বলেন, “আমরা এখন অনশোর গ্যাস ব্লকে, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায়, অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানে মনোযোগ দিচ্ছি।”
তিনি জানান, দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া এবং শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন খাতে চাহিদা বাড়ার কারণে স্থানীয় উৎসে উৎপাদন বাড়ানো এখন অত্যন্ত জরুরি।
বাজার-বিশ্লেষকদের মতে, অনশোর ব্লকে বিনিয়োগ কম লাগে এবং অনুসন্ধানও দ্রুত শেষ করা যায়। এ কারণে পেট্রোবাংলা অনশোর রাউন্ডকে আগে গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে অফশোর ব্লকে অনুসন্ধানে ব্যয় বেশি এবং সময় লাগে বেশি। এছাড়া সাগর এলাকা সম্পর্কে তথ্যস্বল্পতার কারণে অনেক বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে ইতস্তত করছে।
সূত্র জানায়, প্রায় ২৮ বছর ধরে বাংলাদেশ অনশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিড রাউন্ড ডাকেনি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় বর্তমানে অনশোর বিড রাউন্ডের জন্য নতুন মডেল প্রোডাকশন শেয়ারিং কনট্রাক্ট (এমপিএসসি) খতিয়ে দেখছে। পেট্রোবাংলা ইতোমধ্যে খসড়া তৈরি করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।
গ্লোবাল কনসালটেন্ট উড ম্যাকেঞ্জির সুপারিশ অনুযায়ী চুক্তির শর্ত আরও আকর্ষণীয় করা হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান। তিনি কতটি ব্লক অফার করা হবে বা সম্ভাব্য দাম, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
সূত্রের বরাতে ইংরেজি দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস বলছে, পেট্রোবাংলা অফশোর ব্লকের জন্যও আলাদা এমপিএসসি খসড়া করছে।
নতুন শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোম্পানির কাছ থেকে কেনা গ্যাসের দাম ডেটেড ব্রেন্ট ক্রুডের তিন মাসের গড় দামের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। আগের ১৯৯৭ সালের এমপিএসসি ছিল উচ্চ সালফার ফার্নেস অয়েলের (HSFO) সঙ্গে যুক্ত।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের দাম ব্রেন্ট দামের প্রায় ৮ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত রেখে একটি সর্বোচ্চ সীমা (ক্যাপ) বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান ব্রেন্ট দাম অনুযায়ী প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ ডলার।
এটি স্পট মার্কেট থেকে আমদানি করা এলএনজি-র ($১১/MMBtu) তুলনায় অর্ধেকেরও কম এবং দীর্ঘমেয়াদি আমদানির ($৭.৫/MMBtu) তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। তবে এটি বিদ্যমান মডেল পিএসসির সর্বোচ্চ দামের (Chevron পায় $২.৭৬/MMBtu) প্রায় দ্বিগুণ।
শেভরন বর্তমানে ব্লক ১২, ১৩ ও ১৪–তে উৎপাদিত গ্যাস পেট্রোবাংলাকে বিক্রি করে। ক্রিসএনার্জিও ব্লক ৯–এ উৎপাদন করছে।
পেট্রোবাংলা নিজস্ব তিনটি কোম্পানি—সিলেট গ্যাস ফিল্ডস (এসজিএফএল), বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস (বিজিএফসিএল) এবং বাপেক্স—থেকেও নির্দিষ্ট দামে গ্যাস কিনছে।
আসন্ন বিড রাউন্ডে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন শর্ত-সুবিধার সমন্বয় করে পার্থক্য কমিয়ে আনা হয়েছে বলে জানায় সূত্রটি।
১৯৯৭ সালের সর্বশেষ অনশোর বিড রাউন্ডে চারটি ব্লক (৫, ৭, ৯ ও ১০) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ অফশোর বিড রাউন্ডে (মডেল পিএসসি ২০২৩–এর আওতায় ২৪টি ব্লক) কোনো আন্তর্জাতিক কোম্পানি আগ্রহ দেখায়নি।
বাংলাদেশ বর্তমানে কাতারের রাসগ্যাস ও ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি করছে, পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও কেনা হচ্ছে।
দেশে প্রতিদিন মোট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২,৬৭১ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে ৮৯২ এমএমসিএফডি পুনর্গ্যাসিফায়েড এলএনজি। কিন্তু চাহিদা ৪,০০০ এমএমসিএফডিরও বেশি।
বিটি/ আরকে
Tags: অনশোর বিড, অফশোর, গ্যাস উৎপাদন, পেট্রোবাংলা