ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের কয়েকটি স্থানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে সরকার।
ভেনেজুয়েলা সরকার ৩ জানুয়ারির এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিবিসি জানায়, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত সামরিক বিমানঘাঁটি লা কার্লোটা এবং প্রধান সামরিক ঘাঁটি ফুয়ের্তে তিউনা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। একই সময়ে এসব স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার পর কারাকাসের পার্শ্ববর্তী কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। শহরের আকাশে সামরিক বিমান উড়তে দেখা গেছে বলেও অনিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন সম্প্রতি ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে স্পিডবোট লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশজুড়ে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ—যার মধ্যে নিষিদ্ধ তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দ করাও রয়েছে—প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেশের তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশলের অংশ।
ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
Tags: ভেনেজুয়েলা