1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd

অর্ধেকে নেমেছে ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যয়

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয় ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আগের অর্ধেক বছরের (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪) তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন সময়ে ব্যাংকগুলো সিএসআরে খরচ করেছে ১৫০ কোটিরও বেশি টাকা। এর আগের ছয় মাসে ব্যয় ছিল প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ অর্ধেক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা কমেছে এ খাতের ব্যয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলো তাদের বেশিরভাগ সিএসআর অর্থ ব্যয় করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়।

খাতভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা (২২.৭৫ শতাংশ), স্বাস্থ্য খাতে ২৮ কোটি ১২ লাখ টাকা (১৮.৬৭ শতাংশ) এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও অভিযোজন খাতে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা (৩.৪৬ শতাংশ)। অন্যদিকে, “অন্যান্য খাত” নামে শ্রেণিবদ্ধ খাতে গেছে ৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা (৫৫.১২ শতাংশ)।

এই “অন্যান্য খাত”-এর মধ্যে শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেই খরচ হয়েছে ৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক (৪৯.৮৮ শতাংশ)। এছাড়া খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, অবকাঠামো উন্নয়নে ৯ লাখ টাকা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে ৮ লাখ টাকা এবং অন্যান্য খাতে ৪ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে ব্যাংকগুলো। শিক্ষা দ্বিতীয় বৃহৎ খাত হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে, যেখানে বৃত্তি প্রদান, শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ এবং শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থের বড় অংশই গেছে উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণে।

মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সিএসআর তহবিলের একটি বড় অংশ গিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে। কিছু ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোর খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা সামগ্রিক ব্যয় হ্রাসে প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়লে তবেই প্রত্যাশিত মাত্রায় সিএসআর ব্যয় সম্ভব হবে। অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোই সিএসআর অবদানের মূল চাবিকাঠি। এ জন্য তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের নজর বাড়ানোর তাগিদ দেন। একইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে সিএসআর ব্যয় বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দেশের ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে কেবল তিনটি সিএসআরে ব্যয় দেখিয়েছে, যা মোট ব্যয়ের মাত্র ১ কোটি ১ লাখ টাকা (০.৬৭ শতাংশ)। তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক মিলিয়ে খরচ করেছে মাত্র ২ লাখ টাকা (০.০১ শতাংশ)।

অন্যদিকে, সিএসআরে প্রধান অবদান রেখেছে বেসরকারি ব্যাংকগুলো। ৪৩টি বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ৩৬টি মিলে ব্যয় করেছে ১৪১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৯৪.০১ শতাংশ। এ সময়ে বিদেশি ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৮টি খরচ করেছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা (৫.৩০ শতাংশ)।

২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ইসলামী ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, যা সমগ্র ব্যাংক খাতের মোট সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ২৪.৩৬ শতাংশ।

বিটি/ আরকে

Tags:

এই ধরনের আরও নিউজ
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT