ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও সরকার গঠন নিয়ে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৯০ শতাংশ ভোট গণনার কাজ শেষ হয়েছে। এমন অবস্থায় নেতানিয়াহু নাকি গাদি আইজেনকোট—আগামীতে কে সরকারপ্রধান হবেন, তা নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে পুনরায় নির্বাচনের আয়োজন করা ছাড়া উপায় থাকবে না। আর এমনটি ঘটলে আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলের সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের কোনো নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া নেই। বিজয়ী দল বা জোট যদি নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে ব্যর্থ হয়, সেক্ষেত্রে নির্বাচন বাতিল করে ফের নির্বাচনের আয়োজন করার বিধান আছে সংবিধানে। যেমন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীর বিষয়গুলোর ব্যাপারেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তার নেতৃত্বাধীন সরকার।
ইসরায়েলের সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর বিজয়ী দল বা জোটের নেতারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সেই আলোচনার মাধ্যমে সরকারপ্রধান নির্ধারিত হয় এবং এরপর সরকার গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেওয়া হয়। যদি বিজয়ী জোটের মধ্যে ঐকমত্য না হয়, তবে পুনরায় নির্বাচনের বিধান কার্যকর হয়। যদিও গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোটের মধ্যে ঐকমত্যের সম্ভাবনা কম। ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ১২০ আসনবিশিষ্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও কট্টরপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব ইসরায়েলি দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে, যার সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের সরকার গঠন করা প্রায় অসম্ভব। তবে অনেক ইহুদি নেতা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে নেতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। সেই সাক্ষাত বা বৈঠকে বিজয়ী দল বা জোটের কোন নেতা সরকারপ্রধান হবেন— তা নির্ধারিত হয় এবং তারপর সম্ভাব্য সেই প্রধানমন্ত্রীকে সরকার গঠনক করতে ৪২ দিন সময় প্রদান করা হয়।
নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালো ফলাফল করতে না পারলেও, ইহুদি ভোটারদের জোরালো সমর্থন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থেকে অনেকটা রক্ষা করেছে। ফলে যেকোনো জোট গঠনের আলোচনা চলাকালীন বা পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের রিসার্চ ফেলো গাই লুরি জানিয়েছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা সাধারণ সরকারের মতোই থাকে। তবে এই সময়ে সরকারের ওপর কিছু সংযম প্রদর্শনের দায়বদ্ধতা থাকে এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছুটা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এমন সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে যথেষ্ট কার্যকর ক্ষমতা বজায় থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান ও নিরাপত্তাজনিত যেকোনো সংবেদনশীল ইস্যুতে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে। বর্তমানে ভোট গণনা চলমান থাকায় ফলাফলে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, তবে মূল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার গঠনের চ্যালেঞ্জ আপাতত রয়েই যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গাদি আইজেনকোটের জোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে, যা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে দীর্ঘায়িত করছে।
Tags: ইসরায়েল নির্বাচন, গাদি আইজেনকোট, নেসেট, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি