ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমুখী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও জোরদার করছে চীন। এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত সোমবার (২ নভেম্বর) বেইজিংয়ে পৃথক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন শীর্ষ চীনা নেতারা। বেইজিং সফররত ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে বৈঠক করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। একই সময়ে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিককে বেইজিংয়ে বিশেষ রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা জানান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ২৬ মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস, ক্ষতি শত কোটি ডলারের।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি সেক্রেটারি আলী বাঘেরি কানির সঙ্গে আলোচনায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট জানান, দীর্ঘায়িত সংঘাত নিরসনে কেবল সংলাপই একমাত্র সম্ভাব্য পথ হতে পারে। বৈঠকে ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চীনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে চলমান সংঘাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেন ওয়াং ই। আল জাজিরার বেইজিং প্রতিনিধি ক্যাটরিনা ইউ উল্লেখ করেন, তেহরানের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হলেও সম্প্রতি বেইজিংয়ের কূটনৈতিক পদক্ষেপে কিছুটা ধীরগতি ছিল। তবে চীন এখন আবারও মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়।
সংকট মেটাতে চীনের সক্রিয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসেই দেশের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন ইরান, ওমান ও সৌদি আরব সফর করবেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ১৯৭৮ সালে চীনের সঙ্গে ওমানের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম সে দেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চীন সফর করলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক। তাকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় এলাকাকে পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্থান বানানো উচিত নয়। ওমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক শুরুর বিন্দু’ উল্লেখ করে জ্বালানি আমদানিতে ওমানের গুরুত্ব তুলে ধরেন শি।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত হওয়ার কারণে সামুদ্রিক পণ্য পরিবহন ও নৌপথ সুরক্ষায় ওমান মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের কারণে চলাচল সীমিত হওয়ার আগে বিশ্বজুড়ে মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পাদিত হতো। বেইজিং সফরকালে চীন ও ওমানের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সবুজ শক্তি, সাপ্লাই চেইন ও কারেন্সি সোয়াপ চুক্তি সহ মোট ১৪টি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে চীন ও ওমানের পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে অবিলম্বে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। আল জাজিরার ক্যাটরিনা ইউ জানান, সংঘাতের দরুন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুই পক্ষের কাছেই ওমানের গুরুত্ব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ওমানের কয়েকটি কৌশলগত সমুদ্রবন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত হওয়ায় বাণিজ্য সচল রাখতে দেশটি নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
Tags: ইরান, ওমান, ওয়াং ই, কূটনীতি, চীন, মধ্যপ্রাচ্য, শি জিনপিং