1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
বিএনপি নেতা হত্যাচেষ্টার মামলায় যুবদল নেতা কারাগারে ‘উদ্যোগ’ ঋণে প্রতারণা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর সতর্কবার্তা ডিসেম্বর থেকে বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানো শুরু: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ১৭ বছর পর চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি জসিম পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের অতি-বলপ্রয়োগ বন্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান ফ্রান্সে বিশাল বিক্ষোভ: রাজপথে সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ ট্রাম্পের: পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার কাতারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজে আমিরের অংশগ্রহণ নতুন বলে হাসানের জোড়া আঘাত, ম্যাচে ফিরছে বাংলাদেশ ভূমিধস জয়ের পর ডেমোক্রেটদের সামনে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় চ্যালেঞ্জ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জয়: ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের জয়ের পর থেকে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ফলাফল নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবি নিশ্চিত করেছে এবং দলটির ভেতরেই এখন পরাজয়ের কারণ নিয়ে পারস্পরিক দোষারোপের পালা চলছে। অনেক রিপাবলিকান নেতা সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের মতে, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও ইরানের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনার ফলে ভোটাররা বিমুখ হয়েছে, যা দলটির নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার। এ কারণে রিপাবলিকানদের শাস্তি দিয়েছেন। তার ভাষায়, এতে ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘খারাপ প্রচার-যুক্তি’ আর থাকবে না। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।

নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ও দলের ভেতরের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রশাসন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল বলে অনেকের ধারণা। তৎকালীন ইসরাইলি সরকার কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিল যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন সাধারণ মার্কিন ভোটাররা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের একটি জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জনই এই যুদ্ধকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয়ের বিষয়টিও ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে। আলজাজিরাকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কমিটির শুনানি ও তদন্তের মাধ্যমে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পারেন আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী জানত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা।

রিপাবলিকান শিবিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পরাজয়ের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে খোলামেলা মন্তব্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনি জরিপে দল পরিবর্তন করে অন্য পক্ষে ভোট দেওয়া ভোটারদের বড় একটি অংশের মূল কারণ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা। ভ্যান্সের এই মন্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে রিপাবলিকানদের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে দলের ভেতরেই এখন বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল বিদেশের যুদ্ধে দেশটির সম্পৃক্ততা কমানো, অথচ বাস্তব চিত্র তার বিপরীত হওয়ায় ভোটাররা হতাশ হয়েছেন। তাদের উত্তরে উঠে এসেছে চারটি বিষয়—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ফিরে যাওয়া এবং ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন।

ইসরাইলবিরোধী জনমতের প্রভাব দেখা গেছে মিশিগানের নির্বাচনি ফলাফলেও। সেখানে ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ বিপুল অর্থব্যয়ে পরিচালিত এআইপ্যাকের মতো প্রভাবশালী ইসরাইলপন্থি লবিগোষ্ঠীর প্রচারণাকে উপেক্ষা করে জয় পেয়েছেন। বিজয়ী হওয়ার পর তিনি স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের টাকা কোনো বর্ণবাদী ব্যবস্থা বা গণহত্যার কাজে ব্যবহৃত হওয়াটা তারা আর মেনে নেবেন না। আবদুল আল-সাইয়েদ সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে যোগ দিতে যাচ্ছেন, যা ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়ে কংগ্রেসের ভেতরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ বর্ণবাদী ব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক। একই পোস্টে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি।

এদিকে চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন আলজাজিরাকে বলেছেন, ভোটাররা সরাসরি হয়তো ভূ-রাজনীতির খুঁটিনাটি বুঝতে পারছেন না, তবে তারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে এই যুদ্ধের যোগসূত্র স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। এটি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। যদিও এআইপ্যাক দাবি করছে, তাদের সমর্থিত ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, কিন্তু তাদের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্টের ব্যয়ের হিসাব ভিন্ন গল্প বলছে। তারা এবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি, বিশেষ করে মিশিগানে আল-সাইয়েদের বিজয় তাদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। তুলনায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ ও ৮৭ শতাংশ গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জয় পাওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যর্থতার একটি। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে।

ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনের আগেই সামরিক সহায়তার রাজনৈতিক দায়ভার বুঝতে পেরেছিলেন। নির্বাচনের দিন তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে প্রতিবছর দেওয়া সামরিক সহায়তা কমিয়ে বা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ৩৮০ কোটি ডলার প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি এবং নির্দিষ্ট অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিতে পারে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করার পর দেখা যায়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কঠিন শর্ত আরোপ হতে পারে। গত এপ্রিলে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রির বিরোধী প্রস্তাবে ৪০ জন সিনেটর ভোট দিয়েছিলেন, যা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তবে ড্যানিয়েল লেভি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প হয়তো ডেমোক্র্যাটদের কোনো নীতিগত উদ্যোগ ঠেকাতে ভেটো ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারেন। যদিও নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং মার্কিন ক্ষমতার ভারসাম্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর। তবে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পের (ইউএসএমইপি) প্রেসিডেন্ট এবং ইসরাইলের সাবেক শান্তি আলোচক ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে এমন উদ্যোগ আটকে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসরাইলের প্রতি মার্কিন রাজনৈতিক সমর্থন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন ম্যাবনের মতে, ইসরাইলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর হওয়া সময়ের দাবি মাত্র।

তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলা বেশ জটিল।

অন্যদিকে এআইপ্যাক ও অন্যান্য লবিগোষ্ঠী তাদের তৎপরতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করলেও, সাধারণ জনগণের মধ্যে কমতে থাকা জনপ্রিয়তা তাদের ভবিষ্যতের কৌশলে বড় বাধা হতে পারে।

এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি নেতাদের কর্মকাণ্ড আগামী দিনে ওয়াশিংটন-তেলআবিব সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

Tags: , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT