মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বাহাদুরপুর পদ্মাপাড় এখন সরগরম রুপালি ইলিশের কেনাবেচায়। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা পুনরায় নদীতে নামায় শুরু হয়েছে এই ঐতিহ্যবাহী ইলিশের মেলা। প্রায় দুই দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরপরই স্থানীয়দের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়। এবার শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা সাত দিন পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে, যা মূলত বাজারে আসা মাছের আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা-যমুনায় আবারও ইলিশ শিকারে নেমেছেন জেলেরা। কারও হাতে মাছের ঝুড়ি, কারও চোখ বড় ইলিশের দিকে। এমন দৃশ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাহাদুরপুর পদ্মাপাড়।
সকাল থেকেই বাহাদুরপুর ঘাটে সারি সারি জেলে নৌকা ভিড়তে শুরু করে। নৌকা থেকে নামানো টাটকা ইলিশ দেখে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। শুধু স্থানীয়রাই নয়, ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদর, সাভার ও ধামরাই থেকেও মানুষজন ইলিশ কিনতে এখানে ছুটে আসেন। মেলার প্রথম দিনেই ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী কয়েক লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। জাহিদুল হক চন্দন, মানিকগঞ্জ ||। সকাল হতেই পদ্মার পাড়ে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। নদী থেকে একের পর এক জেলের নৌকা এসে ভিড়ছে বাহাদুরপুর ঘাটে। শুরু হচ্ছে দরদাম, চলছে পছন্দের মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। বাহাদুরপুরের এ মেলায় শুধু স্থানীয় ক্রেতারাই আসেন না, হরিরামপুরের পাশাপাশি ঘিওর, মানিকগঞ্জ সদর, ঢাকার ধামরাই ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে আসেন।
তবে মেলা জমজমাট হলেও এবার ইলিশের সরবরাহ নিয়ে হতাশা রয়েছে জেলেদের মধ্যে। তাদের ভাষ্যমতে, নদীতে আশানুরূপ মাছ মিলছে না। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকার জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ ধরার খরচও অনেক বেশি পড়ছে। জেলে পলাশ জানান, চারজন মিলে সারারাত মাছ ধরে চার হাজার টাকার মাছ বিক্রি করতে পেরেছেন, অথচ তেল খরচই হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে লাভ খুব সামান্যই থাকছে। নর্থ চ্যানেলের শিকারি রহমত আলীও জানান, বাহাদুরপুরে দাম ভালো পাওয়ায় তিনি এসেছেন, তবে নদীতে ইলিশের আকাল দেখা যাচ্ছে।
বাহাদুরপুর বাজার বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান শাহিন জানান, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বজায় রাখতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়। মাছ ব্যবসায়ী আয়ূব আলীও এই মেলাকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের ব্যাপক উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির জানিয়েছেন, মা ইলিশের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেই ২২ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। এটি কার্যকর হওয়ায় ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, নদীর সার্বিক মাছের প্রাপ্যতা ও সরবরাহের ওপরই মেলার বেচাকেনার আসল চিত্র নির্ভর করবে।
Tags: ইলিশ, ইলিশের মেলা, জেলে, বাহাদুরপুর, মানিকগঞ্জ