ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, এই নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা প্রদান এবং ভোট দেওয়ার আগেই ভোট দিয়ে ফেলার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অনেক প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা পরিচয়পত্র ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, এসব অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এমনকি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও কমিশন তাকে দায়িত্ব থেকে সরায়নি। ভুক্তভোগী ভোটারদের ভিডিও প্রমাণ থাকার দাবি করে তিনি বলেন, অনেক নারী ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেন তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানানো হলেও তাকে অপসারণ করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল প্রস্তুত, ফলাফলপত্রের যোগফল ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো আলাদা।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই নেতা জানান, ওই এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার হিন্দু ভোটার রয়েছেন এবং তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় দুপুর ২টার আগে মাইকিং ও পোস্টারে নির্ধারিত রঙের বিধিনিষেধ অমান্য করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। একটি কেন্দ্রে পরিচয়পত্রহীন কর্মকর্তাদের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় ওই ব্যক্তি নিজ হাতে নাম লিখে গলায় ঝুলিয়ে নেন বলে তিনি জানান। এই ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাইয়ে তদন্তের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী দুপুর ২টার আগে প্রচারণা চালানোর কথা নয় এবং পোস্টার ও প্রতীকের রং ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে।
ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর জালিয়াতির তথ্য দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, একটি মুড়ি বইয়ে আগে থেকেই ২২টি সিল ও স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এর উদ্দেশ্য হতে পারে জাল ভোট দেওয়ার পথ সুগম করা। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে তিনি ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়েনের পক্ষে জোরালো দাবি জানান। তার ভাষ্যমতে, পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় অংশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তবে সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও নিরপেক্ষতার জায়গাটি অটুট থাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পরিশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি অবশিষ্ট সময়ের জন্য ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভোট গ্রহণ পর্যন্ত শৃঙ্খলা রক্ষা ও অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান কর্মকাণ্ডে সন্তোষ প্রকাশ না করে তিনি বলেন, বাহিনীর সংখ্যা বড় কথা নয়, বরং তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
Tags: উপনির্বাচন, জামায়াতে ইসলামী, ঠাকুরগাঁও-১, নির্বাচন কমিশন, মিয়া গোলাম পরওয়ার