পোশাক শ্রমিকদের মজুরি ৩০ হাজার টাকায় নির্ধারণসহ কয়েক দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের পঞ্চম দিনে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। আজ সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। এর পর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে ফেলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষের মধ্যে বেলা ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় পুলিশ ও শ্রমিকসহ কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদও রয়েছেন, যিনি ইটপাটকেলের আঘাতে সামান্য জখম হয়েছেন।
শিল্প পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের মহাসড়কে নামতে ও কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য করছে কিছু বহিরাগত। অনেক শান্তিপ্রিয় শ্রমিকও কারখানা ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এ বিষয়ে সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পতিতা সরকারের দোসররা পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। তারা শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে নাশকতা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সাভার ও আশুলিয়ার দুই শতাধিক কারখানায় আজ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০ টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে তারা প্রকৃত শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংঘর্ষের কারণে এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তাদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ চলছে। আজ সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। আশুলিয়ার অনন্ত গ্রুপ ও হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়ে অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অস্থিরতায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ছুটি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Tags: আশুলিয়া, পোশাক শ্রমিক, বাংলাদেশ, শ্রমিক অসন্তোষ, সাভার