ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের ভয়াবহতায় বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। রাজধানী সানার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সৌদি বাহিনীর ধারাবাহিক বিমান হামলার ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের দাবি করেছে হুথি গোষ্ঠী। হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, বানি হুশাইশ জেলার আল-শারিয়াহ পাহাড়ি গ্রামটিতে এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও হামলায় মোট কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সানায় হুথিদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
হুথিদের অভিযোগ, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে এগিয়ে যান উদ্ধারকর্মীরা। এ সময় তাদের লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়, যা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে চরম বাধা সৃষ্টি করেছে। এদিকে ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ চলছে। হুথিরা এই মৃত্যুর জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করলেও, পশ্চিমা সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তাদের পাল্টা দাবি হলো, সাধারণ মানুষের প্রাণহানির মূল কারণ হুথিদের কর্মকাণ্ড। এসব শিবিরে অতিরিক্ত মানুষের বসবাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
দীর্ঘদিনের এই গৃহযুদ্ধের প্রভাবে দেশটির পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন শিবিরে ভিড় করছেন। জাতিসংঘের সংস্থাগুলো নতুন করে কলেরার প্রাদুর্ভাব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরগুলোতে বিশুদ্ধ পানির অভাব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পানিবাহিত রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বর্তমানে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় জনস্বাস্থ্য ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় হুথি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত লড়াই চলছে। সংঘাতের বিস্তৃতি ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইয়েমেনের সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতি এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগটি শুধু একটি অঞ্চলকে ঘিরে নয়, বরং দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
Tags: ইয়েমেন, মানবিক সংকট, সংঘাত, সৌদি আরব, হুথি