হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম অস্থিরতা ও নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উভয় দেশই একে অপরের নৌযানে হামলার অভিযোগ তুলেছে। এর মধ্যেই ওমান উপসাগরে একটি কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল গার্ড জানায়, বিপদের সংকেত পেয়ে তাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আরব বংশোদ্ভূত ২২ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট কোনো কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওমান উপসাগরে আগুন লাগা একটি কার্গো জাহাজ থেকে ২২ জনকে উদ্ধার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা জানায়, জাহাজের ক্রুদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাদের বিশেষ দল সেখানে পৌঁছায় এবং আরব বংশোদ্ভূত ওই ২২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছিল যে, হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি তেলের ট্যাংকার মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ট্যাংকার দুটি তাদের নেভিগেশন ও পজিশনিং সিস্টেম বন্ধ রেখে অননুমোদিত রুট দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, কেশম, জাস্ক, সিরিক এবং বন্দর আব্বাসের মতো এলাকায় বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে, যদিও সেটিকে সরাসরি কোনো হামলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো ইরানের সামরিক মহড়া বা যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কোনো পক্ষই উল্লিখিত এলাকাগুলোতে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে গত কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানি জাহাজের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা ও জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটছে। ইরান এবং মার্কিন বাহিনীর এই বৈরী অবস্থান ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রণালিটিতে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
Tags: ইরান, তেল ট্যাংকার, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হরমুজ প্রণালি