শুক্রবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনার ওপর একযোগে এ হামলা চালিয়েছে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে।
তেহরানের পারমাণবিক অগ্রগতি নিয়ে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, সেই মুহূর্তে এই হামলা হলো।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিপ্লবী গার্ডের (আইআরসি) প্রধান জেনারেল হোসেইন সালামি সম্ভবত হামলায় মারা গেছেন। খবরে আরও বলা হয়, আইআরসির আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দুজন পারমাণবিক বিজ্ঞানীও নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন, যতদিন প্রয়োজন, ততদিন চলবে এই সামরিক অভিযান।
একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি একদিনের আক্রমণ নয়।’
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ হামলার লক্ষ্য ‘ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করা।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, এ হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত নয়, ইসরায়েল একাই এ হামলা চালিয়েছে। ‘ইসরায়েল আমাদের বলেছে, তারা মনে করে এটি তাদের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।’
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর আছে এমন সব এলাকাসহ তেহরানের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার ভোরে বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়।
আল জাজিরার তেহরান প্রতিবেদক তহিদ আসাদি জানিয়েছেন, রাজধানীতে তারা স্থানীয় সময় রাত ৩টার দিকে বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন।
মোট ছয় থেকে নয়টি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে রাজধানীজুড়ে। আসাদি নিজে অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে এই বিস্ফোরণগুলো কোনো একটি স্থানে নয়, বরং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম টিভি ইরিব বিস্ফোরণের সত্যতা নিশ্চিত করে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দৃশ্যের ফুটেজ দেখাচ্ছে। ওই সব ফুটেজে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে।
তেহরানের বিভিন্ন পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা ও উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মাহাল্লাতি এলাকায় বিস্ফোরণ হয়েছে। মাহাল্লাতি একটি আবাসিক এলাকা, এখানে সাধারণত সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবার থাকে।
প্রকাশ্যে আসা কিছু ফুটেজ দেখে বোঝা যাচ্ছে, বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তুগুলো আবাসিক ভবনই ছিল।
বিটি/ আরকে