ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তেহরানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, শুল্কটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে ‘ব্যবসা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশ হলো চীন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত। বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই নতুন এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা এলো। সোমবার হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট জানান, বিমান হামলাসহ সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পগুলো এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। তবে এই শুল্কের আওতায় কোন কোন দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, তারা প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে বিবিসিকে দেওয়া সূত্রগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বর্তমানে ইরানের ভেতর থেকে সরাসরি প্রতিবেদন করতে পারছে না।
বিটি/ আরকে