ইসরায়েলের সংসদীয় নির্বাচনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কিংবা প্রভাব বিস্তারে অর্থায়নের অভিযোগ স্রেফ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধ ও নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই দেশটির রাজনীতিবিদরা কাতারকে জড়িয়ে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ইসরায়েলি রাজনীতিক ও তাদের অনুগত সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা নির্বাচন নিয়ে কাতারের কোনো ধরনের আগ্রহ নেই। একই সঙ্গে নিজস্ব রাজনৈতিক সংকটের দায় কাতারের ওপর না চাপাতে ইসরায়েলি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তিনি এসব অভিযোগকে কাতারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অংশ বলে অভিহিত করেন।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে ফিলিস্তিনি দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পাওয়ার পর থেকেই মূলত এ বিতর্কের সূত্রপাত। এর পরই দেশটির কট্টর ডানপন্থী নেতারা আরব দলগুলোর কথিত বিদেশি অর্থায়নের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। এই ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফিলিস্তিনি দলগুলোর নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিখ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এই ঘটনাকে ‘রাআম-গেট’ আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ তোলে।
তবে কাতারবিরোধী এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো ধরনের গোয়েন্দা বা তদন্তমূলক প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। এমন দাবির পেছনে কোনো ভিত্তিপ্রমাণ থাকার তথ্য পাননি বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গও।
উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসনে জয়ী হয়েছে, যা সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে আটটি কম। অপরদিকে বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে নতুন সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ চরম জটিল রূপ নিয়েছে।
Tags: ইসরায়েল, ইসরায়েল নির্বাচন, কাতার, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি, মাজেদ আল-আনসারি