1. bteditor@gmail.com : নিউজ ডেস্ক : নিউজ ডেস্ক .
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : businesstimesadmin :
  3. shafidocs@gmail.com : News Desk : News Desk
  4. rezadu31@gmail.com : বিজনেস ডেস্ক : বিজনেস ডেস্ক .
  5. abdullahsheak8636@gmail.com : Shk Abd : Shk Abd
নতুন সংবাদ
দিল্লিতে বিরোধীদের সমাবেশ, ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি কাতারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত ঘোষণা কাতারএনার্জির মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার: প্রযুক্তির ভিড়ে বইয়ের টানে ৪২ গ্রামের শিশু-কিশোরেরা স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বিশ্বজুড়ে ২৫টি পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়ল কাতারি সিনেমা ‘সনদ’ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মাপাড়ে জমজমাট ইলিশের মেলা ইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বিশাল বিক্ষোভ গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, মোতায়েন ৫ প্লাটুন বিজিবি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার মার্কিন-ইরান পরোক্ষ আলোচনা: কাতারের দোহায় পৌঁছাল ইরানি প্রতিনিধিদল

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একাট্টা বিরোধী জোট: দিল্লিতে বড় সমাবেশ

বিজনেস টাইমস
  • আপডেট সময় রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন আন্দোলনকে এক কাতারে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়া। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ক্ষোভ এখন রাজধানীর নয়াদিল্লিতে একটি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নিয়েছে। রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এই সমাবেশ মোদি সরকারের সামনে এক দশকের শাসনামলে অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জনমতের চাপ সরকারের কাছ থেকে ছাড় আদায় করতে পারে—এমন সম্ভাবনাও সামনে এসেছে।

রোববার ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান নিয়ে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের রাজনীতির বড় বড় পরিবর্তনের সাক্ষী ঐতিহাসিক এই মাঠে সমাবেশের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন এবং সমাবেশে শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক ও তরুণদের ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। আয়োজক কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিল সমাবেশে ১০ লাখ মানুষের সমাগম নিশ্চিত করা। দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি।

সমাবেশের প্রাক্কালে রাহুল গান্ধী তার বক্তব্যে বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, ভোট হলো ভারতীয়দের মতপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম, যা রক্ষার লড়াইয়ে তারা মাঠে নেমেছেন।

পুরো আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) নামে এই কার্যক্রমের আওতায় দেশজুড়ে ভোটার তালিকা যাচাই ও হালনাগাদ করা হচ্ছে। বিতর্কের মুখে গত ২৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন সংশোধন কার্যক্রম শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ পড়া ভোটার এবং নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনটি অমুসলিম অভিবাসীদের দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে।

গত বছর শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত, ৬ কোটি ৩০ লাখ স্থানান্তরিত এবং ৩ কোটি ব্যক্তির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে নতুন করে ফরম-৬ ব্যবহারের কথা বলা হয়।

তবে বিরোধী দলগুলোর জোরালো অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে, যা ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে নির্বাচনী সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি কর্তৃপক্ষ অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

কমিশনের ভেতরের জটিলতা নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দুই সহকর্মী নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। সূত্র: ব্লুমবার্গ, দ্য জাপান টাইমস, রয়টার্স, দ্য স্টার, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও আলজাজিরা।

এবারের আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তরুণদের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আগে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলাদাভাবে লড়াই করা এই সংগঠনটি এখন বিরোধী জোটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সংহতি জানিয়েছে। গত মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অপসারণ চেয়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছিল তারা। এর আগে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তাদের আন্দোলনের চাপে একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, যা ভারতের রাজনীতিতে বিরল ঘটনা। এর আগে গত ১০ অক্টোবর সংসদ ভবনের কাছের জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যাপকসংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করেছিল প্রশাসন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণদের ক্ষোভ, পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন।

শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী গণ-অভিশংসন কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী নেতারা। সেখানে সাবেক লোকসভা স্পিকার মীরা কুমার বলেন, ভোটাধিকার থেকে একজন মানুষকে বঞ্চিত করা মানে গণতন্ত্রের মূল চেতনার ওপর আঘাত করা। অন্যদিকে বিজেপি নেতাদের দাবি, বিরোধী জোট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কিত করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার অপচেষ্টা করছে। এছাড়া ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বার্ষিকীর দিনে এমন সমাবেশের আয়োজন নিয়েও বিজেপির পক্ষ থেকে সমালোচনা করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ সমাবেশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিছু শর্ত আরোপ করেছে। রামলীলা ময়দানের বাইরে মিছিল নিষিদ্ধ এবং বিকেল ৫টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন ও নজরদারি ক্যামেরা মোতায়েন করা হয়েছে। রামলীলা ময়দানের আশপাশে লাঠি ও ঢাল হাতে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সমাবেশে বিপুল মানুষের উপস্থিতির আশঙ্কায় দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প পথ নির্ধারণের প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রোহিত রাজবীর জানিয়েছেন, সমাবেশস্থল ও মিছিলের পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমাবেশস্থলে নজরদারির জন্য ক্যামেরা ও নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে রামলীলা ময়দান বড় আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র। ২০১১ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। এমনকি ১৯৭৫ সালেও জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে এখান থেকেই জনমত গড়ে উঠেছিল। মোদি সরকারের আমলেও সিএএ বিরোধী আন্দোলন ও কৃষক বিদ্রোহের মতো বড় ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও বিরোধী জোটের সমর্থন মিলে এবার মোদি সরকারের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সরকারের স্থিতিশীলতা আপাতত অটুট রয়েছে এবং ২০২৯ সালের আগে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। এতে দেশটিতে প্রতিবাদ ও ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ কতটা রয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস সরকারের পরাজয় ঘটে।

Tags: , , , , ,

এই ধরনের আরও নিউজ

আরও সংবাদ

কারেন্সি কনভার্টার

বাজেটের সবখবর

© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT