বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে, ভারত সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড-এর এই ঘোষণা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পোশাক খাতকে লক্ষ্য করে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, অবনতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন অর্থনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। তবে এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কিন্তু এতে নয়াদিল্লির কৌশলগত স্বার্থ তেমন একটা পূরণ হবে না। বুধবার (২১ মে) নিজেদের সম্পাদকীয়তে এসব কথা লিখেছে ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দু।
ওই সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ভারতের এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের পোশাক এবং অন্যান্য পণ্যের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে, ভারতের উত্তর-পূর্বের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার অস্বীকার করে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা মোহাম্মদ ইউনূসের প্রতি একটি কড়া বার্তা দিয়েছে। মার্চ ২০২৫-এ চীন সফরের সময় ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বকে ‘ভূবেষ্টিত’ উল্লেখ করে বাংলাদেশের মাধ্যমে চীনা প্রবেশাধিকারের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
বাণিজ্য কূটনীতি: ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য-সম্পর্কিত উত্তেজনার ওই সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের আলোচনা নিয়ে ভারতের অস্বস্তি বোধ করাটা স্বাভাবিক হলেও, এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে, যা মূলত পোশাক রপ্তানির উপর নির্ভরশীল, ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কিন্তু এতে নয়াদিল্লির কৌশলগত স্বার্থ তেমন একটা পূরণ হবে না। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সাবেক নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব – যারা প্রতিরোধকারী আমলাতন্ত্র এবং চলমান অস্থিতিশীলতার সাথে লড়াই করছে – তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে দায়ী করেছে। ইউনূস প্রশাসনের পাকিস্তানের প্রতি উষ্ণতা এবং আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা – যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে করা তাদের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী – সম্পর্ককে আরও খারাপ করেছে।
ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লির জন্য এখন অপরিহার্য হলো বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নিপুণভাবে সম্পর্ক স্থাপন করা, কারণ তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে এই বছরের শেষের দিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তারিখ সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্টতা নেই।

এতে আরও বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পরামর্শ দিতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে একাধিক স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি এ ধরনের একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ বাণিজ্য সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপের চেয়ে বেশি উপযুক্ত। কারণ, এটি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রস্থানের পর বাংলাদেশে কিছু উপাদান দ্বারা ভারত-বিরোধী মনোভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই ধরনের মৌলবাদী উপাদান, যাদের অনেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারে তেমন আগ্রহী নয়, তারা নতুন করে আইন-শৃঙ্খলাজনিত সমস্যাও তৈরি করতে পারে যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
সম্পাদকীয়র শেষ করা হয়েছে এই বলে যে, ভারতের সতর্কতার সঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা উচিত, এই বিষয়টি মাথায় রেখে যে, ইউনূস সরকারের প্রতি তার অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি ঢাকায় একটি জনপ্রিয় নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা না নেওয়া পর্যন্ত এই প্রশাসনের সঙ্গে কার্যনির্বাহী সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
বিটি/ আরকে
Tags: বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য