রাজধানীর অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শুক্রবার রাতে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। খিলগাঁও, বিমানবন্দর, শাহবাগ এবং কালশী এলাকায় এসব নাশকতা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কে বা কারা এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাতে পারেননি পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তারা।
সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
খিলগাঁও থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, সদর দপ্তরের ভেতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের কোনো বাড়ির ছাদ বা নিচ থেকে ককটেলটি ছুড়ে মারা হয়েছে। প্রায় একই সময়ে বারিধারার জে-ব্লক এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। নতুন বাজার এলাকায় যাত্রী নামানোর কিছুক্ষণ পরই বাসটিতে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসচালক ও হেলপারকে থানায় নিয়ে গেছে। তবে এই দু’টি ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।’। ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের কোনো বাসার ছাদ অথবা নিচের কোনো স্থান থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে।’। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাসটির চালক ও হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
শাহবাগে দুই দফা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল খালেক জানান, রাত ১০টা ২০ মিনিটে আইবি গেটের সামনে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে প্রথম ককটেলটি ছোড়া হয়। এরপর রাত ১২টা ১ মিনিটে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশের ধারণা, মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে রাতে বিমানবন্দর এলাকায়ও নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। রাত পৌনে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানিয়েছেন, উড়াল সেতু থেকে ককটেল দুটি ছুড়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এর আগে মিরপুরের কালশী মোড়েও মোটরসাইকেলে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর তথ্য পাওয়া গেছে। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, জড়িতদের শনাক্ত করতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Tags: ঢাকা, নাশকতা, পুলিশ, বিস্ফোরণ, রাজধানী