কাতারের প্রবাস জীবনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে অনন্য সাফল্যের নজির গড়েছে বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি ৯২.৭৭ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে। এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদ। সে বিবেচনায় বাংলাদেশ এমএইচএম স্কুল অ্যান্ড কলেজের এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও আনন্দের উপলক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগে মোট ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যেখানে পাসের হার ৯৫ শতাংশ। এই বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন শিক্ষার্থী—মুহাম্মদ ওয়াদিস সাবা চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত রাফিও, তাসনিমুল হাসান রাকিন ও মোঃ তামিম উল্লাহ। এছাড়া জিপিএ-৪ বা তার বেশি পেয়েছে ১৭ জন এবং জিপিএ-৩-এর বেশি পেয়েছে ১৬ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, যার পাসের হার ৯১ শতাংশ।
দীর্ঘ বিরতির পর এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাস জীবনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এই অর্জন বেশ আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের কঠোর অধ্যবসায়, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের নিরলস সহযোগিতা এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও নিয়মিত পাঠদান প্রক্রিয়া এ অর্জনে সহায়ক হয়েছে। প্রবাসজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এ অর্জন নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন আহমদ বলেন, কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ হযরত আলী খান ও পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনা এবং কলেজ প্রশাসনের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই এমন ফলাফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি এই অর্জনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে কাতারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রবাসে শিক্ষার এই সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গঠন, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে লালনের এক বড় মাধ্যম। শিক্ষার্থীদের যোগ্য, মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই স্কুল অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীতে প্রতিষ্ঠানটি আরও ভালো ফলাফল অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। প্রবাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্মাণ, জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড়কে আঁকড়ে রাখার প্রত্যয়।
Tags: এইচএসসি পরীক্ষা, কাতার, প্রবাস জীবন, ফলাফল, বাংলাদেশ স্কুল