ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রধান মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি নিহত। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল গোলাম আলী রাশিদ এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহদি তেহরানচি ও ফারিদুন আব্বাসিও।

পরিস্থিতি কোন পথে? তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নাকি ইরাকের মতো ধীরে ধীরে ক্ষয় হবে ইরান?
ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যারমধ্যে নাতাঞ্জের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রও রয়েছে। হামলায় তেহরানের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানায় বেসামরিক লোকজনও নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল বলে আসছে, তারা কখনোই পারমাণবিক ইরানকে সহ্য করবে না। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখে। তারা মনে করে, ইরান পারমাণবিক শক্তি হয়ে উঠলে তাদের জন্যও হুমকি হয়ে উঠবে।
ইসরায়েল এখন মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ন্ত্রণহীন শক্তি। সে সেখানে কোন শক্ত প্রতিপক্ষ রাখবে না। ইরানের স্পর্শকাতর স্থাপনায় হামলা সে উদ্দেশ্য স্পষ্ট। সিরিয়ায় আসাদের পতন ইসরায়েলকে বেপরোয়া করেছে। আর সে তার সামনে বড় কোন চ্যালেঞ্জ দেখতে পাচ্ছে না। যতটুকু জানা যায়, ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহ (লেবাননে), হুতি বিদ্রোহী (ইয়েমেনে) ও ইরাক-সিরিয়ায় মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সাথে তাদের গোপন বোঝাপড়ার কথা।

এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার ওমানে ষষ্ঠ দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় অগ্রগতি না ঘটিয়ে সময়ক্ষেপণ করার অভিযোগ এনেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইসরায়েলের এই হামলার সঙ্গে ওয়াশিংটনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইরান বহুবার বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় না; বরং তারা শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক গবেষণা চালিয়ে যেতে চায়। ইরানের কথা ইসরায়েল শুনবে না। তারা তাদের এ পথ থেকে সরাতে বাধ্য করবে। এক্ষেত্রে ইসরায়েল একা নয় মধ্যপ্রাচ্যেও পেয়ে গেছে তার মিত্র। সাথে পশ্চিমা শক্তি তো আছেই।
ইরানের পক্ষে দাড়ানোর মত কি কোন শক্তি আছে? দাড়াবে দাড়ালে টিকতে পারবে কি? সেই হিসেব করেই মার্কিনের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে ইসরায়েল মরণ কামড়া দিয়েছে ইরানের কোমড়ে। ইরানের অবস্থাও কি তাহলে ইরাকের মত হতে যাচ্ছে? ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

ইসলামী দেশগুলোতে যাতে ইসরায়েল বিরোধী ইসলামী শক্তির ব্যাপক বৈরী অবস্থা তৈরী না হয় তার জন্য পশ্চিমা শক্তির নানা পক্ষ কাজ করছে। বাংলাদেশেও তারা বিভিন্নভাবে তৎপর। মার্কিনের মদদপুষ্ট অনুগত অতি দক্ষিণপন্থী সরকারকে ক্ষমতায় রেখে সেই সুবিধা তারা গ্রহণ করতে চায়। সেই দিক থেকে তারাও এখানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। কিন্তু ইউক্রেন-রাশিয়ার পর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ হবে বিশ্বের জন্য বিশাল সংকট ও তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের খন্ডিত সূচনা।
Tags: ইরান, ইসরায়েল, পারমাণবিক স্থাপনা