ভারতে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। এই দাবির পক্ষে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার ভোর থেকেই দিল্লির রামলীলা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র হাজার হাজার সমর্থক। এরই মধ্যে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর একটি মিছিল সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছে। রোববার ভোর থেকে সেখানে জমায়েত শুরু করেন বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সমর্থকরা।
রামলীলা ময়দানে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার মানুষের অবস্থানের সুযোগ থাকলেও বিরোধী নেতাদের দাবি, এই সমাবেশে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার বেশি লোক হলে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তাঁদের আটকে দেওয়া হতে পারে। নিরাপত্তা ও যানজট এড়াতে শহরের একাধিক প্রধান সড়কে যান চলাচল ইতিমধ্যে সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।
বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কেবল প্রতিবাদ এলাকাতেই প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন সড়কে বসানো হয়েছে কড়া ব্যারিকেড। এছাড়া পুরো শহরজুড়ে নজরদারি চালাতে ২৫০টিরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কর্মসূচির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কনট প্লেস-মিন্টো রোড সংযোগস্থল থেকে মূল মিছিলটি শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ মিছিলে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের মতো শীর্ষ বিরোধী নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটের এই বড় ধরনের প্রতিবাদের জবাবে একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে তারা রাজধানীতে আলাদা সমাবেশের ডাক দেওয়ায় পুরো দিল্লিজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
Tags: ইন্ডিয়া জোট, জ্ঞানেশ কুমার, দিল্লি বিক্ষোভ, ভারত রাজনীতি, রামলীলা ময়দান, রাহুল গান্ধী